এবার আপনার খসড়াটি কান দিয়ে যাচাই করুন
কোনো প্রকল্পের অগ্রগতির বিবরণ এতবার পড়েছেন যে প্রতিটি বাক্যই চেনা লাগছে। পাঠানোর আগে এবার শব্দগুলো শুনে দেখুন। নীরবে পড়তে পড়তে মনের মধ্যে ফাঁকগুলো পূরণ না করলে একই কথার পুনরাবৃত্তি, হঠাৎ প্রসঙ্গ বদলে যাওয়া বা মূল কথায় পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় নেওয়া বাক্য আরও সহজে চোখে পড়তে পারে।
এটি আপনার লেখার পর্যালোচনার আরেকটি উপায়, প্রতিটি ভুল ধরার প্রতিশ্রুতি নয়। সম্পাদনার সিদ্ধান্ত আপনিই নেন। Read Aloud আপনার iPhone-এ ইমপোর্ট করা খসড়া অডিওতে পড়ে শোনাতে পারে; এটি বানান পরীক্ষা, তথ্য যাচাই বা শেষবার চোখ দিয়ে দেখে নেওয়ার বিকল্প নয়।
1. ইমপোর্ট করার অনুমতি আছে এমন ছোট খসড়া বেছে নিন
ছোট লেখা দিয়ে শুরু করুন: নিউজলেটারের ভূমিকা, কোনো অনুষ্ঠানের ঘোষণা বা প্রকল্পের অগ্রগতির বিবরণ। যে অ্যাপে লিখেছেন, সেখানেই সম্পাদনাযোগ্য মূল কপিটি রাখুন। সমর্থিত DOCX, TXT বা PDF ফাইল হিসেবে একটি কপি এক্সপোর্ট করুন, তারপর সেই কপিটি Read Aloud-এ ইমপোর্ট করুন।
প্রথমবার গোপনীয় নয় এমন খসড়া ব্যবহার করুন। কিছু সুবিধার ক্ষেত্রে ব্যাকএন্ডে প্রক্রিয়াকরণ হতে পারে, তাই ব্যক্তিগত বা ক্লায়েন্টের লেখা ইমপোর্ট করার আগে গোপনীয়তা নীতি ও কর্মক্ষেত্রের নিয়ম দেখে নিন। প্রতিটি নথির সমস্ত প্রক্রিয়াকরণ আপনার ডিভাইসেই হয়, এমন ধরে নেবেন না।
2. সঠিক লেখাটিই শুনছেন কি না যাচাই করুন
লেখার মান বিচার করার আগে ইমপোর্ট করা লেখাটি মূল কপির সঙ্গে মিলিয়ে নিন। অনুচ্ছেদগুলো কি সঠিক ক্রমে আছে? কোনো শিরোনাম, পৃষ্ঠার নিচের লেখা বা পৃষ্ঠা নম্বর কি বাক্যের মধ্যে ঢুকে পড়েছে? অস্বাভাবিক বিরতি বা বাদ পড়া শব্দগুচ্ছ আপনার খসড়ার কারণে না হয়ে ফাইল থেকে লেখা বের করার প্রক্রিয়ার কারণেও হতে পারে।
PDF-এর পৃষ্ঠাবিন্যাসের জন্য পড়ার ক্রম এলোমেলো হয়ে গেলে আরও সহজ বিন্যাসের DOCX বা TXT কপি ব্যবহার করে দেখুন। নাম, সংখ্যা ও সংক্ষিপ্ত রূপ মূল কপির সঙ্গে মিলিয়ে নিন: কেবল অস্বাভাবিক উচ্চারণ শুনলেই যে বানান ভুল, তা নয়।
3. প্রথমবার অর্থ বোঝার জন্য শুনুন
উপলব্ধ কণ্ঠগুলোর মধ্যে একটি বেছে নিন এবং স্বাচ্ছন্দ্যে শোনার মতো গতি রাখুন। এবার এমনভাবে শুনুন যেন বার্তাটি প্রথমবার পাচ্ছেন। তিনটি প্রশ্ন করুন: মূল বক্তব্য কী? পটভূমির কোন তথ্য বাদ পড়েছে? পাঠকের এরপর কিছু করার আছে কি, আর থাকলে কী?
কোনো কিছু অস্পষ্ট লাগলে থামুন এবং আপনার নিয়মিত নোট নেওয়ার অ্যাপে সংক্ষেপে লিখে রাখুন। যেমন: ‘দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ: কোন কাজের সময়সীমা, তা বুঝিয়ে লিখতে হবে।’ শোনার সময় প্রতিটি বাক্য নতুন করে লিখতে হবে না। আগে চিহ্নিত করুন কোথায় পাঠক বক্তব্যের খেই হারাতে পারেন।
4. যে বাক্যটি সংশোধন দরকার, সেটি আবার শুনুন
এবার চিহ্নিত অংশগুলোতে মন দিন। একই শব্দ বারবার আসছে কি না, মূল কথার আগে ভূমিকা বেশি লম্বা হচ্ছে কি না এবং সর্বনাম দিয়ে কাকে বা কী বোঝানো হচ্ছে তা অস্পষ্ট কি না, খেয়াল করে শুনুন। প্রতিটি পুনরাবৃত্তি বাদ দেওয়া বা প্রতিটি বাক্য ছোট করা লক্ষ্য নয়। কোনো কথা জোরালো করতে পুনরাবৃত্তি কাজে লাগলে তা রাখুন; মূল বক্তব্য অস্পষ্ট করলে বদলান।
যেমন, ‘আমরা দলের সঙ্গে পরিকল্পনাটি পর্যালোচনা করব এবং সেটি তৈরি হলে তারা তা পাঠাবে’ বললে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না। কে কী পাঠাবে, আর কখন? ‘মঙ্গলবারের পর্যালোচনার পর মায়া চূড়ান্ত পরিকল্পনাটি দলকে ইমেল করবে’ লিখলে কাজটি স্পষ্ট হয়। আপনার বার্তার ক্ষেত্রে সত্য, শুধু এমন তথ্যই ব্যবহার করুন।
কোনো অংশ খুঁজে পেতে সুবিধা হলে অডিও চলার সঙ্গে সঙ্গে লেখাটিও দেখুন। আসল সংশোধনগুলো মূল লেখার অ্যাপে করুন, তারপর সংশোধিত সংস্করণ শুনতে চাইলে নতুন কপি ইমপোর্ট করুন।
5. সবশেষে চোখ দিয়ে দেখে নিন
অডিও দিয়ে যাচাই করা পর্যালোচনার একটি ধাপ মাত্র। পাঠানোর আগে মূল কপিতে প্রাপক, তারিখ, লিঙ্ক, টাকার অঙ্ক, বানান ও বিন্যাস পরীক্ষা করুন। ছক, চিত্র এবং পৃষ্ঠার বিন্যাসের ওপর অর্থ নির্ভর করে এমন অন্য তথ্যগুলো দেখে নিন। উদ্ধৃত লেখা তার উৎসের সঙ্গে মিলিয়ে পড়ুন।
কখন থামবেন, তার একটি ব্যবহারিক মানদণ্ড সহজ: মূল বক্তব্য পরিষ্কার, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরের কাজটি স্পষ্ট এবং খুঁটিনাটি তথ্য যাচাই করা হয়েছে। কৃত্রিম কণ্ঠের নিখুঁত পরিবেশনা আপনার লক্ষ্য নয়। আপনার শব্দগুলো দিয়ে যা বলতে চেয়েছেন, তা বলা হচ্ছে কি না, সেটিই আপনি ঠিক করছেন।
Read Aloud দিয়ে একবার শুনে যাচাই করুন
Read Aloud একটি সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক অ্যাপ। সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার আগে Try It First দিয়ে অ্যাপে দেওয়া নমুনা লেখা শুনতে পারবেন; নিজের খসড়া ইমপোর্ট করতে ও শুনতে সক্রিয় সাবস্ক্রিপশন প্রয়োজন। কেনার আগে আপনার স্থানীয় App Store-এ বর্তমান দাম ও সাবস্ক্রিপশনের শর্ত দেখে নিন।
শোনার অভিজ্ঞতা আপনার উপযোগী কি না, বুঝতে অ্যাপে দেওয়া নমুনাটি শুনে দেখুন। সাবস্ক্রিপশন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে একটি ছোট খসড়া ও ওপরের পাঁচটি ধাপ দিয়ে শুরু করুন। মূল কপিটি রেখে দিন, মন দিয়ে শুনুন, ভেবেচিন্তে সংশোধন করুন এবং পাঠানোর আগে শেষবার চোখ দিয়ে দেখে নিন।